পার্কের এক কোণে শিমুল গাছের নিচে আমি আর মু বসলাম। সামনের পুকুরটিতে রাজঁহাসের জলখেলা মুগ্ধ হয়ে দেখছে মু ।
আমি তাকিয়ে আছি অসহ্য রকমের সুন্দর মানবীর দিকে। শিমুল ফুলের মত লজ্বায় রাঙা হয়ে আছে সে। কিছু বলার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে মনে হয়। কি এমণ কথা যা বলার আগেই রাঙা হয়ে উঠছে। বসন্তের মাতাল করা বাতাস মু এর মাথার বাম পাশের চুলগুলো মুখটাকে আড়াল করে আমাকে রূপের আগুণে ঝলসে যাওয়া থেকে রক্ষা করছিল। মু বসন্ত বাতাসের এই অনাধিকার চর্চার প্রতিবাদে চুলগুলো ঠিক করছিল। এই সুবাধেই মু এর নড়াচড়া।
নয়তো কোন দেবী মূর্তির পাশে নিজেকে পূজারী মনে হচ্ছিল।
অবুঝ শিশু যেমন বায়না ধরে কোন কিছু পাওয়ার পর সমস্ত চোখে মুখে খুশি খুশি ভাব থাকে তেমনি মু এর চোখে মুখে খুশি ঠিকরে পরছে। খুশির কারণটা বুঝতে না পারলেও পোড়ামুখির মুখের অব্যাক্ত আনন্দ ধারা চারপাশটাকে সবুজ করে তুলেছিল। যেন স্বর্গ সুখ আভির্বাবের পূর্ব মুহুর্ত।
মু আইসক্রিম খেতে খুব পছন্দ করে। তাই আইসক্রিম আনার জন্য উঠলাম । তখনি মু আমার হাতটা আলতো করে ধরল। বুঝতে পারলাম পাশ থেকে যেতে দিবে না। নরম হাতের বাঁধন ছেড়ার ক্ষমতাও আমার ছিল না। নিজেকে সেই আনন্দ ধারার অভিসিক্ত যুবরাজ ভেবে বসে পরলাম মু এর পাশে। মনে মনে প্রার্থণা করলাম আমৃতু্ইয় যেন এই বাঁধন ছেড়ার ক্ষমতা আমার না থাকে।
No comments:
Post a Comment