Saturday, May 13, 2017

 Mor Vabonare Ki Haway | প্রিয় গানের কথা ( রবীন্দ্রসংগীত)

মোর ভাবনারে কী হাওয়ায় মাতালো,
দোলে মন দোলে অকারণ হরষে।
হৃদয়গগনে সজল ঘন নবীন মেঘে
রসের ধারা বরষে॥
তাহারে দেখি না যে দেখি না,
শুধু মনে মনে ক্ষণে ক্ষণে ওই শোনা যায়
বাজে অলখিততারি চরণে
রুনুরুনু রুনুরুনু নূপুরধ্বনি॥
গোপন স্বপনে ছাইল
অপরশ আঁচলের নব নীলিমা।
উড়ে যায় বাদলের এই বাতাসে
তার ছায়াময় এলো কেশ আকাশে।
সে যে মন মোর দিল আকুলি
জল-ভেজা কেতকীর দূর সুবাসে॥

Eki Labonno Purno Pran | প্রিয় গানের কথা ০২ (রবীন্দ্র সঙ্গীত)

একি লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণ, প্রাণেশ হে,
আনন্দবসন্তসমাগমে॥
বিকশিত প্রীতিকুসুম হে
পুলকিত চিতকাননে॥
জীবনলতা অবনতা তব চরণে।
হরষগীত উচ্ছ্বসিত হে
কিরণমগন গগনে॥

Bodhu Kon Alo Laglo Chokhe | প্রিয় গানের কথা (রবীন্দ্র সঙ্গীত)

বঁধু, কোন আলো লাগল চোখে!
বুঝি দীপ্তিরূপে ছিলে সূর্যলোকে!
ছিল মন তোমারি প্রতীক্ষা করি
যুগে যুগে দিন রাত্রি ধরি,
ছিল মর্মবেদনাঘন অন্ধকারে,
জন্ম-জনম গেল বিরহশোকে।
অস্ফুটমঞ্জরী কুঞ্জবনে,
সংগীতশূন্য বিষণ্ন মনে
সঙ্গীরিক্ত চিরদুঃখরাতি
পোহাব কি নির্জনে শয়ন পাতি!
সুন্দর হে, সুন্দর হে,
বরমাল্যখানি তব আনো বহে,
অবগুণ্ঠনছায়া ঘুচায়ে দিয়ে
হেরো লজ্জিত স্মিতমুখ শুভ আলোকে॥

গুণীজন ঠিক বলে, আমার মাথায় ঢুকে না

পন্ডিত নাগ মহাশয় বলেছিেলন, 

"যতই করিবে গুপ্ত
ততই হইবে পুক্ত
অার যত করিবে ব্যক্ত
ততই হইবে ত্যক্ত"

ভালবাসায় কথটা যায় না। ভালবাসা মুখ বন্ধ করে হয় না। অার ব্যক্তটা মনের অজান্তেই হয়ে যায়। সেই ব্যক্ত হওয়া অাবেগগুলো কে কেউ যখন তুচ্ছ -তাচ্ছিল্য করে তখন ভালবাসার প্রতি সম্মান থাকবে কি করে। ভাবলেই কেমন জানি লাগে, যখন অাপনার ভালবাসার মানুষ, অাপনার অাবেগগুলো নিয়ে নিষ্টুর ভাবে ফুটবল খেলে নিজেকে মেসি অার নেইমার ভাবে তখন কেমন লাগবে। এ জন্যই হয়তো রবিন্দ্রনাথ বলেছিলেন, " পারলে মদ খা, গাজা খা, নিজের কলিজাটা জ্বালিেয় ফেল। কিন্তু নিজের মনটাকে পচাঁশ না"। অার যখন নিজের মন, ভালবাসা ব্যক্ত করতে গিয়ে ত্যক্তাতায় ভরে ওঠে তখন বেচেঁ থাকাটাই অর্থহীন হয়ে ওঠে।

অন্ধকারের গল্প

যখন তোমায় সময়- অসময়ে একটু কথা বলা বা একটু হাসি শুনার জন্য বারবার অাবদার করতাম তখন বিরক্ত ভরাস্বরে ছেলেমানুষি করছি বলতে। কই এখন তো তুমি দূরে, কিন্তু আমার প্রতিটা সময় তোমাকে নিয়ে ভাবে। সময়ের বিশালতা তোমার ভাবনায় শূন্যে মিলায়। শুধু নানা অজুহাতে তোমাকে বিরক্ত করা হয় না। তাই তুমি বুঝতেও পার না। 
সত্যিকার অর্থে কি, এটাই হল ভালবাসা। তুমি নেই জেনেও তোমাকে নিয়ে ভেবে চলা, একা একা মনের কথা বলা। তোমার অনুপস্থিতেও তোমার পাশে চলা। তুমি চাইলেও তোমার দূরে যাওয়া হবে না। কারণ, তোমার তো অজানা নয়, অামি ঈশ্বর চাইনি, চেয়েছিলাম তোমাকে। 

মু সমাচার | ০১

সকালে ফোন পেয়ে বিছানা ছারলাম। এক ঘন্টা দাড় করিয়ে রেখে অবশেষ আসলেন। পোড়ামুখি আজ শাড়ি পরেছে। অসম্ভব সুন্দরী লাগছিল।

এখন পর্যন্ত যতবার পরী ভেবেছি, তার সাথে কোন্ মিল খুজে পাচ্ছিলাম না পুড়ামুখির। নেই ডানা, পরেনি ধবধবে সাদা
বসন। তারপরেও অদ্ভুদ সুন্দর লাগছিল। একে তো ছিপছিপে গড়ন। চড়ুই পাখির মতো যায় যায় অবস্থায় সাজের কি ঢং।
কচুপাতা রঙের শাড়ি, হাতে শাড়ি রঙের সাথে মিল করে কাচের চুড়ি, কপালে কালো টিপ, কানে সবুজ দোল। চুল
গুলো পরিপাটি করে গুছানো। পোড়ামুখি তো জানে সবুজ রঙ্গে আমার জ্বলন বেশি।
আমকে জ্বালানোর জন্যই এই সাজ। মনে মনে টিক করলাম আমিও কম কিসে, পোড়ামুখি কে আমিও দেব। 

কাছে আসুক বলে দেব, দেখতে পেতনির মতও লাগছে। কাছে এসেই গেজদেখনো নিষ্পাপ হাসি দিয়ে জানতে চাইল কি
খাবো। আমার বুকে হাহাকার তুলে মুখটা বন্ধ করে দিলো। শুধু ভাব্ নিলাম যেনো পোড়ামুখি কে পেতনির মতো দেখতে। পুড়ামুখির শান্তচোখের দিকে তাকিয়ে 
পারলাম না বলতে পোড়ামুখি তোকে পরীর চেয়ে সুন্দর লাগছে।

মু সমাচার | ০২

পার্কের এক কোণে শিমুল গাছের নিচে আমি আর মু বসলাম। সামনের পুকুরটিতে রাজঁহাসের জলখেলা মুগ্ধ হয়ে দেখছে মু ।

আমি তাকিয়ে আছি অসহ্য রকমের সুন্দর মানবীর দিকে। শিমুল ফুলের মত লজ্বায় রাঙা হয়ে আছে সে। কিছু বলার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে মনে হয়। কি এমণ কথা যা বলার আগেই রাঙা হয়ে উঠছে। বসন্তের মাতাল করা বাতাস মু এর মাথার বাম পাশের চুলগুলো মুখটাকে আড়াল করে আমাকে রূপের আগুণে ঝলসে যাওয়া থেকে রক্ষা করছিল। মু বসন্ত বাতাসের এই অনাধিকার চর্চার প্রতিবাদে চুলগুলো ঠিক করছিল। এই সুবাধেই মু এর নড়াচড়া।
নয়তো কোন দেবী মূর্তির পাশে নিজেকে পূজারী মনে হচ্ছিল।

অবুঝ শিশু যেমন বায়না ধরে কোন কিছু পাওয়ার পর সমস্ত চোখে মুখে খুশি খুশি ভাব থাকে তেমনি মু এর চোখে মুখে খুশি ঠিকরে পরছে। খুশির কারণটা বুঝতে না পারলেও পোড়ামুখির মুখের অব্যাক্ত আনন্দ ধারা চারপাশটাকে সবুজ করে তুলেছিল। যেন স্বর্গ সুখ আভির্বাবের পূর্ব মুহুর্ত। 

মু আইসক্রিম খেতে খুব পছন্দ করে। তাই আইসক্রিম আনার জন্য উঠলাম । তখনি মু আমার হাতটা আলতো করে ধরল। বুঝতে পারলাম পাশ থেকে যেতে দিবে না। নরম হাতের বাঁধন ছেড়ার ক্ষমতাও আমার ছিল না। নিজেকে সেই আনন্দ ধারার অভিসিক্ত যুবরাজ ভেবে বসে পরলাম মু এর পাশে। মনে মনে প্রার্থণা করলাম আমৃতু্ইয় যেন এই বাঁধন ছেড়ার ক্ষমতা আমার না থাকে।

বই রিভিউ | নজরুলের প্রবন্ধ সমগ্র

হৃদয়ের তৃষ্ণা মেটানোর জন্য বই পড়ি। তবে পাবলিক প্লেসে বলার মতো দূসাহস কখনও করি নি। কারণ আমি জানি আমার চেয়ে অনেক বড় বড় বই পড়ুয়া যারা আমার খুবই পরিচিত এবং যাদের সামনে আমি অতি নগন্য। তবুও আজ এই মূসাহস নিয়ে আপনাদের বলছি যদি সম্ভব হয় নজরুল ইন্সিটিউট কর্তৃক প্রকাশিত ‌‌‍" নজরুলের প্রবন্ধ সমগ্র" বইটি পড়বেন। আমি এই পর্যন্ত যত দেশি এবং বিদেশি বই পড়েছি তার মধ্যে সবচেয়ে ভাললাগার অন্যতম একটি প্রবন্ধ সংকলন এটি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল শুধু মানুষ পরিচয় নিয়ে, মানুষকে ভালবেসে, মানুষের মঙ্গলে নিজেকে বিলিন করার শক্তিকে জাগিয়ে তোলাটা। 
প্রচণ্ড কষ্ট অনুভূত হয়েছিল, গুরুি শিষ্যের (রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম) এর মধ্যকার ভুল বুঝাবুঝি নিয়ে সৃষ্ঠ প্রবন্ধ" বঢ়র পিরীতি বালির বাঁধ" প্রবন্ধটি পড়ে। আবার প্রচন্ড আনন্দ পেয়েছিলাম " তুর্কি মহিলার ঘোমটা খোলা" প্রবন্ধটি পড়ে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে " সত্যবাণী" প্রবন্ধটি ধর্মীয় উর্গ মৌলবাদী কে্উস্কে দিবে। অসাধঅরণ প্রবন্ধটি হল " মন্দির ও মসজিদ" যেখানে মানবতাই সবার উর্দ্ধে। এইগুলোসহ সর্বমোট ৯৬ টি অসাধারণ সত্য এবং এখনও জীবন্ত প্রবন্ধগুলো নিয়েই বইটির ২য় সংস্করণ। 
এই প্রবন্ধগুলো না পড়লে "আমি" সম্পর্কে আমার ধারণা অপুক্তই থেকে যেত। মিথ্যের অন্ধকারে সত্যিকে খোঁজতাম শুধু। 
সম্ভব হলে অবশ্যই পড়বেন, ১ম সংস্করণের চেয়ে ২য় সংস্করণে ৫টি প্রবন্ধ ছাপা হয়েছে। স্বীকার করতেই হয় সৃষ্টিশীলতার এক তুঙ্গীয় নিদর্শণ ছিলেন নজরুল।

পাগলামি | ভালবাবাসা

সূর্য ডুবি ডুবি করছে। আকাশের পাখিগুলোর মত মানুষগুলো নীড়ে ফেরার ব্যস্ততা সামাল দিচ্ছে নগরী। ছেলেটিও সারাদিনের ক্লান্তি শেষ করে নিজের ঘরে ফেরার তাগিদে হাতের কাজ সাড়ছে। তখন পকেটের সেলফোনটা আওয়াজ দিল। মোবাইল স্ক্রীনে প্রিয় মানুষটির সেল নাম্বার দেখে কাজে বিরতি দিয়ে কথা বলল। হাতের কাজ ফেলে রেখেই তাড়াহুড়ো করে বের হল। রাস্তার পাশের রেস্টুরেন্টে গেল। প্রিয়তমারন মুখটি দেখে সমস্ত ক্লান্তির মাঝে যেন শান্তির পরশ পাথরের ছুয়া নিল ।
 চেয়ারে বসেই জানতে চাইল-কি ব্যপার এই সন্ধ্যায় তুমি? 
মেয়েটি শান্ত চোখে সরল একটা হাসি দিয়ে বলল- তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছা করছে তাই চলে এলাম। 
মিষ্টি ছেলেটিও পূর্বের মত আজও গায়ে না লাগানোর ভাব নিয়ে বলল- আমার কি আজ নতুন চেহারা বেড়িয়েছে? যে আমাকে দেখার জন্য অসময়ে তোমাকে আসতে হবে। 
মিষ্টি মেয়েটি নিষ্পাপ শিশুর মত শুভ্র হাসি দিয়ে বলল, মনে হচ্ছিল আজ আমি মারা যাব, সত্যি যদি তাই হয় তবে শেষ দেখাটা দেখে নিলাম। 

কি #পাগলামি তাই না!

ঘটনাটা আমার খুব কাছের এবং আপন একটা কাপল। গতকাল রাতে প্রেমিক ছেলেটি আমাকে এই ঘটনাটির বর্ণণা দিচ্ছিল , তখন তার চোখে-মুখে যে আনন্দ প্রস্ফুটিত হচ্ছিল তা না দেখলে লিখে বুঝানোর মত শব্দ আমার জানা নেই। সত্যিই ভালবাসা শূণ্য কে অসীমে রূপান্তর করতে পারে। খুব ইচ্ছা করছে এই পাগলামুর সাথে মিশে যেতে। যাদের দেখে এখনো নতুন করে শিখছি ভালবাসার মানে। ভালবাসায় সত্যি পাগলামি আছে। আর এই পাগলামিগুলোই ভালবাসাকে স্থান করে দিয়েছে ঈশ্বরের পাশে।
তোরা ভাল থাকিস একসাথে সাড়াটা জীবন। তোদের জন্য রইল পৃথিবীর সমস্ত #ভালবাসা

শ্বপ্ন


রাইছা মনে মনে ভাবছে, সে যদি আকাশে টিয়া পাখি হয়ে উড়তে পারতো তবে সে প্রথমে কামরাঙ্গা গাছের উপরের ডালে বসে কামরাঙ্গা খেত। আর নিচের দিকে আধ-খাওয়া কামরাঙ্গা ফেলে দিত। কিন্তু সে পরক্ষণেই ভাবল, আরে আমি তো টিয়া পাখি হতে পারবো না কারণ নিজের গায়ের চামড়া কালো। আর কালো চামড়া নিয়ে সে কাক হতে পারবে। এই ভেবে সে আকাশে টিয়া পাখির মতো উড়ে বেড়ানোর চিন্তাটা বাদ দিল। আর কামরাঙ্গা গাছের নিচে দাঁড়িয়ে লম্বা লাঠি দিয়ে গাছ থেকে কামরাঙ্গা পারতে লাগল। পেছন থেকে তার মা ফাতেমা বেগম ডাক দিল-
রাইছা তুই এই দুপুর বেলা কামরাঙ্গা গাছের নিছে দাঁড়িয়ে আছিস কেন ? চল ঘরে যাবি। 
মা ফাতেম বেগম মনে ভয় নিয়ে রাইছাকে খুঁজে বেড়াচ্ছিল। কদিন পর রাইছার বিয়ের তারিখ ঠিক হয়ে আছে। এখানে মামার বাড়িতে এসে ৮ বছরের মামাতো বোন রুমিকে নিয়ে সে তার ইচ্ছামত সারা গ্রাম ঘুড়ে বেড়াচ্ছে। 
আর ফাতেমা বেগম আশে-পাশের বাড়ির লোকের সাথে কথা বলার ফাঁকে মেয়ের খোঁজ নিচ্ছিলেন। অনেক দিন পর ফাতেমা বেগম তার বাবার বাড়ি সবুজপুর গ্রামে এসেছেন। ঢাকায় তার একটি সুন্দর ফ্লাটবাড়ি আর বাড়ির সামনের লোহার গেইটে বাংলায় লেখা “হুতুম নিবাস” নিচে লেখা মৃত আনোয়ার রহমান। তারপর বাসাটির আবাসিক একটি ঠিকানা উলে­খ করা আছে। তার স্বামী মৃত আনোয়ার রহমানের পছন্দ করা নাম “হুতুম নিবাস” তাই এ নামটি এখনো আছে। যদিও ফাতেমা বেগম এই নামটি একেবারেই সহ্য করতে পারতেন না। নামটা শুনলেই ফাতেমা বেগমের মনে আসে গ্রামের বাড়ির পাশের বড় শেওরা গাছের ডালে বসে চোখ বড় বড় করে একটি পেঁচা তার দিকে তাকিয়ে আছে। ফাতেমা বেগম বরাবরই আনোয়ার সাহেবের সাথে মিলিয়ে চলতে পারতেন না। কারণ তার স্বামী আনোয়ার রহমান সরকারি কাস্টম অফিসের সর্বোচ্চ পদে চাকুরী করতেন। কিন্তু ফাতেমা বেগম আশে-পাশের অন্যান্য সাহেববিবিদের সাথে তাল মেলাতে পারতেন না। কারণ আনোয়ার রহমান ছিলেন অতন্ত্য সৎ এবং দায়িত্বপরায়ণ পুরুষ। তাই তিনি অসৎ উপায়ে কোন অর্থ আয় করতেন না। আর এ কারণেই ফাতেমা বেগম তার স্বামী আনোয়ার রহমানের সাথে সবসময় একটা দূরত্ব থাকত। অত:পর আনোয়ার সাহেব অবসর নিলেন এবং প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে পাওয়া টাকা ও নিজের জমানো অল্প কিছু টাকা দিয়ে তিনি এই বাড়িটি করেন এবং এর নাম দেন ‘হুতুম নিবাস’। কিছুদিন পর আনোয়ার সাহেব হটাৎ স্ট্রোক করে মারা যান। আনোয়ার রহমান মারা যাওয়ার পর ফাতেমা বেগম তার স্বামীর প্রতি প্রচন্ড ভালবাসা অনুভব করলেন তাই এই বাড়িটিই তার প্রিয় বাড়ি হয়ে গেল। যতকঠিনই হোক না কেন তিনি এই বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করবেন বলে ঠিক করেন। এরপর ফাতেমা উনার একমাত্র মেয়ে রাইছাকে ও বিশ্বস্থ কাজের লোক নিয়ে ঢাকায় হুতুম নিবাসেই থাকতেন। আর বড় ছেলে আরিফ রহমান কানাডার একটি সফটওয়ার কোম্পাানিতে ভাল বেতনের চাকুরী করে। সে প্রতি মাসে এক তারিখে ফাতেমা বেগমের কাছে বাসার খরচ ও হাত খরচ হিসাবে টাকা পাঠিয়ে দেয়। আরিফের ইচ্ছা ভাল একটা ছেলে পাওয়া গেছে এবার রাইছাকে বিয়ে দিয়ে মাকে নিয়ে আসবে কানাডায়। আরিফ, মুনান লো নামের কানাডিয়ান একটি মেয়েকে ভালবেসে বিয়ে করেছে। কিন্তু এখনো মাকে সে বলেনি, মা প্রথমে রাগ করবেন। তবে তার বিশ্বাস মুনান লো কে দেখার পর তার মা আর রাগ করে থাকতে পারবেন না। আরিফের চোখে মুনান লো সুন্দর একটি পুতুল। আর এদিকে মা ফাতেমা বেগম মনে মনে ঠিক করে রেখেছেন তার কলেজ বান্ধবীর মেয়ে ফাহিমার সাথে আরিফকে বিয়ে করাবেন। 

২.
রাইছা তার মামার সাথে নানা বাড়ির পুকুরের মাছ ধরা দেখছিল। নানা মোড়ল আব্দুর রহমান এক সময়ে টাকার কুমিড় ছিল বর্তমানে সে নেই তবে সে টাকার এক কোণাও শেষ হয় নি বলে লোকের ধারণা। মোড়ল আব্দুর রহমান মারা যাওয়ার কিছুদিন পর রাইছার বড় মামা সামসু রহমানও মারা যান তখন তার বয়স ৩৫ বছর ছিল। সবাই মনে করে নানার মতো তার পুত্র বদস্বভাব পাওয়ার কারণে নানা তাকে খুব পছন্দ করতেন বলে তিনি চলে যাওয়ার পর বড় মামাকেও সাথে করে নিয়ে গেছেন। রাইছার এখন একমাত্র ছোট মামা রইছুদ্দিন বর্তমানে ইউপি চেয়ারম্যান। সাড়া দিন গ্রামের লোকের সাথে নানা কাজ নিয়ে তিনি ব্যস্ত থাকেন। তার একটাই চিন্তা কিভাবে লোকের দুঃখ দূর করা যায়। গ্রামের মুরব্বিরা বলে আব্দুর রহমানের ছেলে তার বাবার মতো হয় নি। সেই মামা আজ রাইছার পাশে বসে পুকুরের নানা রকম মাছের নামের সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। রাইছার ধারনা সে মামাকে সব চেয়ে বেশি পছন্দ করে এবং তার মামাও তাকে সবার চেয়ে বেশি ¯েœহ করেন। 
রাইছা মামাকে হটাৎ জিজ্ঞেস করল- মামা, সবাই তোমাকে বলে তুমি নানার মতো হও নি। আমার নানা কি খুব খারপ ছিলেন ?
এ প্রশ্ন রাইছার মুখ থেকে শুনার পর রইছুদ্দিন পুকুরঘাট থেকে চলে যান কোন উত্তর না দিয়ে?
তবে রাইছা শুনেছে যে তার নানা নাকি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিদের দূসর ছিল। । 
আশে-পাশের দশ গ্রামের মুক্তিকামী মানুষদের নাকি সে পাকিস্তানিদের হাতে তুলে দিয়েছিল। আর গ্রাম গুলোতে আগুন দেওয়ার আগে সে নাকি গ্রামের বড় কর্তাদের বাড়িতে লুট করতো। 
তবে রাইছা জানে তার ছোট মামা অনেক ভাল মানুষ। মামা তার বাবার করে যাওয়া কর্মের জন্য সত্যিকার অর্থে দুঃখী। তিনি কিবা করতে পারতেন তখন তো ছিলেন মাত্র ১৫ বছরের ছেলে। 
তবে এই বয়সেই রাইছা অনেক কিছু বুঝে নিয়েছিল। তার বাবা আনোয়ার রহমান তাকে নানা বাড়িতে কখনো আসতে দিতেন না। তখন কিছু কিছু সে জানতে পেরেছিল তাদের বাসার কাজের লোক নূর চাচার কাছ থেকে। 
তবে সে তার ছোট মামাকে অনেক মিস করতো। তাই তো তার বাবা মারা যাওয়ার পর এই প্রথম সে তার মার সাথে মামা বাড়িতে আসল। অবশ্য তাকে নিয়ে তার মামার ব্যস্থতার শেষ ছিল না। 
রাইছার পাশে বসা মামাতো বোন রুমিকে বলল, তুই কি কখনও পুকুরে মাছ ধরেছিস?
রুমি এই কথা শুনে হাঁসতে শুরু করল, বলল কি বল তুমি আপু। গ্রামের মেয়ে হয়ে আমরা মাছ ধরব না।
রাইছা এবার কপালে ভাঁজ দিয়ে বলল, তা তো বুঝলাম। তা তুই এভাবে হাঁসছিলি কেন? তোর হাঁসি দেখে মনে হল এইমাত্র আমার মাথায় যেন দুটি শিং গজাল।
বল তুই হাঁসছিস কেন?
পাশে বসে থাকা রুমির বান্ধবী শিউলি হটাৎ বলে উঠল-
রুমি সেদিন বরশীতে লাগা মাছের টানে পানিতে পড়ে গিয়েছিল আর সে সাতার জানে না বলে অনেক পানি খেয়েছিল পরে রইছ চাচা এসে তাকে পানি থেকে টেনে তুলেছিলেন। 
এই কথা শুনে রুমি শিউলিকে বলল, তুই বললি কেন, তুই আর আমার সাথে কথা বলবি না। তোর সাথে আড়ি। 



৩.
এই সময়ে রাইছার হাতে থাকা মোবাইল ফোনটায় “যদি মন কাঁদে তুমি চলে এসো, এক বরষায়.....” গানটি বেজে উঠল। মোবাইল স্ক্রীনে গধংঁফ ঈধষষরহম.... লেখাটা দেখতে পেল রাইছা। 
মাসুদ একটি বেসরকারী ব্যাংকের কর্মকর্তা যার সাথে রাইছার বিয়ে ঠিক হয়ে আছে। মাসুদের মাকে নিয়ে সে ঢাকাতেই থাকে। প্রথমে যদিও রাইছা বিয়েতে রাজি ছিল না তার ইচ্ছা ছিল সেও অনার্স শেষ করে নিজে একটা চাকুরী করবে। কিন্তু তা হল না ফাতেমা বেগম ও তার ছোট মামার জন্য। তারা তাকে বলেছিলেন আনার্স শেষ করতে আর মাত্র দুই বছর লাগবে, বিয়ের পর বাকী সময়টা মাসুদের বাড়ি থেকে অনার্স শেষ করলে মাসুদ ও তার মার কোন আপত্তি নেই। তবে রাইছা জানে সে আর অনার্স শেষ করতে পারবে না। বিয়েতে রাজি হওয়ার আরও একটা কারণ ছিল মাসুদকে রাইছারও খুব পছন্দ হয়েছে। রাইছা মোবাইলের সবুজ বোতামে চাপ দিল।
-কি করছো?
ওপাশ থেকে মাসুদের হাঁসি জড়িত কণ্ঠ শুনতে পারলো রাইছা।
-পুকুরে মাছ ধরা দেখছি।
-তুমি কি করছ ?
মাসুদকে পাল্টা জিজ্ঞেস করল রাইছা।
-এই মাত্র চোখ খুললাম, আর চোখ খুলেই তোমাকে ফোন করলাম।
রাইছা এই অল্পদিনেই বুঝতে পারছে যে, মাসুদ ঘুম কাতুরে। শনিবার বেলা বাজে ৩টা এই সময় মাসুদ ঘুম থেকে উঠল। 
মাসুদ আবার বলল।
-আজকে বিয়ের পাঞ্জাবি কিনতে যাবো বিকেলে, ঢাকায় থাকলে আমার সাথে করে তোমাকে নিয়ে যেতাম। তোমার পছন্দের পাঞ্জাবিটা কিনতাম। তুমি কবে আসবে বলো ?
রাইছা পাঞ্জাবির কথা শুনতেই চোঁখে ভেসে উঠল হালকা আকাশী রং। তার খুব প্রিয় আকাশী রং। সে ভাবল, নাহ্ বিয়েতে কষ্টের রং মেনে নেওয়া যায় না।
-তুমি এক কাজ কর পরের শনিবারে কিন আমিও থাকব তোমার সাথে।
নিজের পছন্দের রংয়ের কথা আর বলল না রাইছা। 
-আচ্ছা মহারানী, আপনি যা বলবেন তাই হবে। 
উত্তর দিল মাসুদ।
-মাসুদ লজ্জার মাথা খেয়ে বলল আমার আর দেরি সহ্য হচ্ছে না। কবে যে সেই বিয়ের দিনটা আসবে।
শুনে রাইছাও লজ্জা পেল। সেও একটু উতলা হয়ে আছে মাসুদের জন্য এটা সে বুঝতে দিতে চায় না। সে মনে করে তার ভালবাসটা প্রকাশ করলে মাসুদের ভালবাসা যদি কমে যায়।
- এই আর কয়েকটা দিন জনাব অপেক্ষা করেন হবে। আমরা চলে আসবো বৃহস্পতিবার মামী আর রুমিকে নিয়ে, মামা বিয়ের দুই দিন আগে আসবেন। 
-তার মানে তোমরা বৃহস্পতিবার আসবে। ঠিক আছে তাহলে বি রিষষ সববঃ ঝধঃঁৎফধু বাবহরহম ধঃ নড়ংঁহফযধৎধ ংযড়ঢ়ঢ়রহম সধষষ. 
- আচ্ছা। এখন বিছানা ছাড়ে ভৎবংয হয়ে কিছু খাও।
ঠিক আছে বলে মাসুদ ফোন রাখলো।
মাসুদের ভাষ্যমতে রাইছা মোটেও কালো নয় এবং সে সম্পূর্ণ বাঙ্গালি একটা মেয়ে যার নাক, চোখ, মুখ, কথা বলা সবকিছুই মায়ায় পরিপূর্ণ। 
রাইছার মনে পড়ল মাসুদ বলেছিল, আমি নাকি বেশি আদিক্ষ্যেতা করি। সবাই অবশ্য আমাকে উজ্জ্বল শ্যামলা বলে। কিন্তু আমার মনে হয় আমি কালো। তাও আবার কাকের মতো।
এই কয়েকদিন মামার বাড়িতে প্রকৃতির খেলা দেখা আর গুন গুন করে রাইছার সময় কাটলো। চলে যাবে ভাবতেই সে বুঝতে পারলো গ্রামের ভালবাসা তাকে বেঁধে ফেলেছে। বাবার মুখ থেকে শুনে গ্রামের যে ছবিটি সে একেঁছিল তার সেই আকাঁ ছবিকেও গ্রামের প্রকৃতি হার মানাল। সে বার বার বাবাকে ধন্যবাদ দিয়েছিল, যে গ্রাম সম্পর্কে থাকে গল্প শোনানোর জন্য। সে ঠিক করলো বিয়ের পর মাসুদকে নিয়ে সে গ্রামে আসবে এবং পূর্ণিমা রাতে সারারাত পুকুর পাড়ে বসে মাসুদের সাথে গল্প করবে। 

৪.
ফাতেমা বেগম সবুজপুরে আসার কয়েকদিন পর থেকেই চোখে ভাসছে হুতুম নিবাসের বেলকুনিতে পত্রিকা হাতে বসা অনোয়ার সাহেব কিন্তু সে পত্রিকাটি পড়ছে না বরং বিরক্তবোধে সামনের গেইট এর দিকে শুধু তাকিয়ে আছেন। ‘চলে আসব’ এই কথাটি যেন তিনি আনোয়ার সাহেব কে কানে কানে বলেন। ফাতেমা বেগম ভাই রইছুদ্দিনকে একবার বললেন,
-বৃহস্পতিবার আমরা মামী ও রুমিকে নিয়ে ঢাকায় চলে যাব এবং বিয়ের কেনাকাটা কিছুটা আগে করে ফেলবেন।
-বুবু কি বল! দেশের রাস্তা-ঘাটে প্রতিদিন অন্যায় হরতাল-অবরোধের কারণে কতো মানুষ দূর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে। 
ফাতেমা বেগমকে থাকার জন্য কিছুতেই রইছুদ্দিন রাজি করাতে পরলো না।
-ঠিক আছে বুবু, তুমি যেহেতু আমার কথা শুনবে না তাহলে যাবে। 
রাইছা ছোট মামার কথা শুনে মনে মনে খুশি হল। যাক শনিবারে অবার মাসুদের সাথে দেখা হবে। মা ছোট মামীকে খুব পছন্দ করেন। তারও একটা কারণ ছিল। ছোট মামী কেনাকাটায় পটু ছিলেন। মামীর পছন্দ অনুযায়ী মা যা কেনাকাটা করতেন মায়ের কাছে তা-ই ভাল লাগত। এজন্যই মা মামীকে বিয়ের সপ্তাহ আগেই নিয়ে যেতে চাইছেন ঢাকায়। 
মামা সেই মোতাবেক আগ থেকেই ঢাকায় যাওয়ার জন্য মাইক্রোবাস টিক করে রেখেছিলেন। কিন্তু সমস্যসা হল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। বৃস্পতিবার নাকি হরতাল। আর মা যাবেনই। কিন্তু কি আর করা মামা একটু চালাকি করে একটি এম্বুলেন্স ঠিক করে দিলেন। ঠিক হল সবাই অসুস্থতার ভান করে সে এম্বুলেন্সে করেই যাবো। অবরোধ আর হরতালে এম্বুলেন্স চলাচলে কোন বাধা নেই। মামা আর আমি অবশ্য এই হরতালের পক্ষে ছিলাম না। কারণ হরতাল দিয়েছে বাঙ্গালী জাতির শত্র“ হিসাবে যাদের পূর্ব পরিচয় আছে এমন একটি দল। তাদের এক নেতার যুদ্ধাপরাদের দায়ে মৃত্যুদন্ডের নাকি পরোয়ানা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অবশ্য এ মৃত্যু পরোয়ানা নিয়ে মামা ও আমি বেশ আত্মতৃপ্তির অনুভব করছি।
আমরা বৃহস্পতিবার ঠিক সকালের নাস্তা খাওয়ার পর রওয়ানা দিলাম ছোট মামার ঠিক করে দেওয়া এম্বুলেন্সে করে। বাহির থেকে দেখলে সবাই মনে করবে কোন গুরুত্বর অসুস্থ রোগীকে নিয়ে হাসপাতালের উদ্দ্যেশ্যে যাচ্ছে এম্বুলেন্সটি। মামার এই বুদ্ধিটা রাইছার বেশ পছন্দ লাগল আবার কষ্ট লাগল নিজের দেশে নিজেকে লুকিয়ে রাস্তায় চলাফেরা করতে হচ্ছে।
ঢাকার কাছাকাছি পর্যন্ত চলে এলাম কোন ঝামেলা ছাড়াই। মা ও মামী দুজনই গল্প করছেন বিয়েতে কি কি কেনা যায় সে বিষযটি নিয়ে। দুজন বললে ভুল হবে। সত্যিকার অর্থে মা একাই সব ঠিক করছেন আর মামী শুধু সায় দিচ্ছেন। রাইছা আর তার মামী ভাল করেই জানে ফাতেমা বেগম কেনাকাটা করার সময় সবকিছুই পাল্টে যাবে। তবুও রাইছা শুনছে আর রেহেনা রাইছার মাকে মাঝে মাঝে উৎসাহ দিচ্ছেন। 
এরই মধ্যে রাইছা মাসুদ এর কথা গুলোকে নিয়ে ভাবতে শুরু করলো-
মাসুদের জন্য বিয়ের পাঞ্জাবি কিনতে মার্কেটে গেল কিন্তু কোন রংয়েই যেন তার মন ভরছে না। প্রায় কয়েক ঘন্টা খুঁজতে খুঁজতে হালকা কাজ করা একটা লাল-খয়েরি রংয়ের পাঞ্জাবী সে পছন্দ করলো। এবং পাঞ্জাবীটি সে মাসুদের গায়ের সাথে ধরে বলল-
-দেখো, এই পাঞ্জাবীটা তোমাকে মানায় কি না? 
মাসুদ বলল, পাঞ্জাবী পড়ে তো তোমাকেই দেখাতে যাবো, তোমার ভাল লাগলেই হবে আমাকে দেখাতে হবে না। 
রাইছা মুচকি হাসতে লাগলো গাড়িতে বসেই। ঠিক করলো লাল-খয়েরী রংয়ের পাঞ্জাবীই মাসুদকে বেশি মানাবে। এ রকমই একটা পাঞ্জাবী সে পছন্দ করবে। 
সাভারে এম্বুলেন্সটি স্মৃতিসৌধের প্রধান ফটকের সামনে অসলো ব্যস্ততম সড়কটিও কেমন যেন একটু অলস। এদিকে এম্বুলেন্সটির জ্বালানিও প্রায় শেষ চালক জ্বালানি নিতে চেয়েছিল পথে ফেলে আসা সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে কিন্তু হরতালের কারণে সেটি বন্ধছিল। সামনে একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন আছে। গ্যাস লোড করার জন্য ড্রাইভার সেখানেই এম্বুলেন্সটি নিয়ে গেল। সিএনজির সামনে একটি দেওয়ালে বড় বড় করে লেখা “ সতর্কিকরণ বিজ্ঞপ্তি সিএনজি ফিলিং এর সময় যাত্রীদের নামিয়ে দিন”। ড্রাইভার নামতে বললে রুমি হেসে বলে উঠল-
-এম্বুলেন্সে তো আমরা সবাই রোগী। তাহলে রোগীরা নামবে কিভাবে, আমরা তো অসুস্থ।
একথা শুনে সবাই হাঁসতে হাঁসতে এম্বুলেন্স থেকে নেমে একটু দূরে সড়ে দাঁড়িয়ে রইল।
হটাৎ পিচঢালা রাস্তা দিয়ে কয়েকটা মোটরসাইকেল চালিয়ে কিছু যুবক তাদের সবার মুখে হেলমেট এর কারণে কাউকেই দেখতে পায় নি রাইছা। চোখের পলকে মোটর সাইকেল আরোহী কিছু একটা যেন ছুড়ে দিল। রাইছার সামনে পড়ল। বিকট আওয়াজ হল। চারিদিকে চিৎকার।

রাইছাকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে “হুতুম নিবাস” এর উদ্দেশ্যে এম্বুলেন্সটি যাচ্ছে আর রোগীর বেডে প্রোট্রোলে ঝলসানো মুখের সাথে নিতর দেহটার দিকে তাকিয়ে ফাতেমা বেগম, রেহেনা ও রুমী নির্বাক চোখের পানি ফেলছেন। 
খবর পেয়ে মাসুদ ছুটে যাচ্ছে “হুতুম নিবাসে” যেখানে তার আসার কথা ছিল রাইছার পছন্দের পাঞ্জাবী পড়ে। ব্যস্তপায়ে হেটে চলছে সে, কি করে তাড়াতাড়ি পৌছানো যাবে। রাইছার কোমল মায়া মাখানো মুখ শেষ বারের মতো দেখবে বলে।

Sleepy Time Tom - Full Episode

হায়রে জীবন .................ঘুমে ধরলেও শান্তি নাই । জীবনটা শেষ। টম ভাগ ভাগ রে